পানিসম্পদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পানিসম্পদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২২ মার্চ, ২০১৪

বিশ্ব পানি দিবস ২০১৪: পানি ও শক্তি

ভূমিকাঃ


প্রতিবারের মত এবছর ২২ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হবে বিশ্ব পানি দিবস। বিশ্ব পানি দিবসের  সূচনা ১৯৯২ সালে। ঐ বছর ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনে-রিওতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে একটি বিশেষ দিনকে স্বাদু পানি দিবস হিসেবে পালন করার কথা সুপারিশ করা হয়। পরের বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৩ সালের ২২ শে মার্চকে প্রথম আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর স্বাদু পানির উপর এক একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ২২ শে মার্চ বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে পালিত পানি দিবসগুলিতে স্থান পেয়েছে নারী ও পানি, তৃষ্ণার জন্য পানি, পানির প্রতুলতা, ভূগর্ভস্থ পানি, ভাটির অধিবাসীর জীবন, একুশ শতকের পানি, পানি ও স্বাস্থ্য, উন্নয়নের জন্য পানি, ভবিষ্যতের জন্য পানি, জীবনের জন্য পানি, পানি ও সংস্কৃতি, পানির অপ্রতুলতা, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, আন্ত-সীমান্ত পানি, পানির মান, শহরের জন্য পানি, পানি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা,  ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে ‘পানি ও জীবন’ শিরোনামে একটি পানি দশক (১৯৯৫-২০০৫) পালিত হয়েছে এবং ২০১৩ সাল ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ ওয়াটার কোঅপারেশন’ বা পানি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বছর হিসেবে পালিত হয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে। পানি ও শক্তির একে অপরের উপর নির্ভরশীলতার (পানি-শক্তি যোগসূত্র) উপর গুরুত্ব আরোপ করে এবারের (২০১৪) বিশ্ব পানি দিবসের স্লোগান “ পানি ও শক্তি”। এই প্রবন্ধে বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পানি ও শক্তির মধ্যকার নির্ভরশীলতাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস থাকবে।

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৩

জাতীয় পানি নিরাপত্তা সূচক ও বাংলাদেশ

২০১৩ সালের এপ্রিলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের অর্থায়নে এশীয় পানি উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি  (Asian Water Development Outlook) প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকাশনায় বাংলাদেশ সহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পানিসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু চিত্র উঠে এসেছে। পানিসম্পদ উন্নয়নের জাতীয় পর্যায়ের এই রূপ আসলে জাতীয় পানি নিরাপত্তা সূচক বা National Water Sequirity Index (NWSI) এর মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে। পুরো রিপোর্টটি এই লিঙ্ক থেকে পড়া যাবে। আমি এই লেখায় চেষ্টা করেছি এই রিপোর্টের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় পানি নিরাপত্তার একটি রূপ তুলে ধরতে। লেখাটি দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্বে জাতীয় পানি নিরাপত্তা সূচকের মৌলিক তথ্য ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নির্ণয়ের সার্বিক ব্যবচ্ছেদ থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে  কি কি পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশ তার জাতীয় পানি নিরাপত্তা সূচকের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে তা বিশ্লেষণের চেষ্টা থাকবে।

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৩

প্রয়োজন সমন্বিত পরিবেশ মডেলিং



এবছরের পানি দিবসের স্লোগান হচ্ছে “Water, water everywhere, only if we share”,  যার মূল কথা হচ্ছে একমাত্র সহযোগীতাই পারে বিপুল চাহিদার বিপরীতে পানির যোগানকে নিশ্চিত করতে। সেই সহযোগীতা নিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে, দেশীয় পর্যায়ে এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। এই মাসের মাঝামাঝিতে আলবার্টা এনভায়রনমেন্ট এন্ড সাসটেইনেবল রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের দুই দিন ব্যাপী এনভায়রনমেন্টাল মডেলিং ওয়ার্কশপে যোগদান করেছিলাম। ওয়ার্কশপটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান, মাটি, বায়ু, পানি ও জীববৈচিত্র, ইত্যাদির কিভাবে সমন্বিত মডেলিং করা যায় সেটি নিয়ে মত বিনিময়। মজার বিষয় হচ্ছে এবারের পানি দিবসের থিমের সাথেও এই বিষয়টি দারুণ মিলে যায়, কারন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগীতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্ত্বপূর্ন শর্ত হচ্ছে পরিবেশের এই উপাদানগুলোর মধ্যে সঠিক সমন্বয় স্থাপন করা। এই ওয়ার্কশপের অভিজ্ঞতা নিয়েই আজকে আমার এই নিবন্ধ।

বিশ্ব পানি দিবসঃ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগীতা



২০১৩ সালে উপাত্ত মতে বছরের ১১৫ টি দিনকে জাতিসংঘের বিশেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হিসেব কষলে তাই বছরের প্রায় ৩২ শতাংশ দিনই কোন না কোন বিশেষ দিন। তবে এর মধ্যে একটি দিন বাংলাদেশের মত নদীমাতৃক দেশের কাছে অধিক গুরুত্ত্ব বহন করে, আর তা হচ্ছে ২২ মার্চ, বিশ্ব পানি দিবস। কেন বিশেষ গুরুত্ত্ব বহন করে সেই আলোচনায় পরে আসছি তার আগে এই দিনটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নেই। বিশ্ব পানি দিবসের  সূচনা ১৯৯২ সালে। ঐ বছর ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে একটি বিশেষ দিনকে স্বাদু পানি দিবস হিসেবে পালন করার কথা সুপারিশ করা হয়। পরের বছর জাতিসংঘের সাধারন পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৩ সালের ২২ শে মার্চকে প্রথম আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর স্বাদু পানির উপর এক একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে ২২ শে মার্চ বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে পালিত পানি দিবসগুলিতে স্থান পেয়েছে নারী ও পানি, তৃষ্ণার জন্য পানি, পানির প্রতুলতা, ভুগর্ভস্থ পানি, ভাটির অধিবাসীর জীবন, একুশ শতকের পানি, পানি ও স্বাস্থ, উন্নয়নের জন্য পানি, ভবিষ্যতের জন্য পানি, জীবনের জন্য পানি, পানি ও সংস্কৃতি, পানির অপ্রতুলতা, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, আন্তসীমান্ত পানি, পানির মান, শহরের জন্য পানি, পানি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এর মধ্যে ‘পানি ও জীবন’ শিরোনামে একটি পানি দশক (১৯৯৫-২০০৫) পালিত হচ্ছে। এবছরের (২০১৩) পানি দিবসটি একটু ভিন্ন। তাজিকিস্তান ও আরো কয়েকটি দেশের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১০ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের সভায় ২০১৩ সালকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ ওয়াটার কোওপারেশন’ বা পানি নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগীতার বছর হিসেবে। একথা অনস্বীকার্য যে জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের ফলে স্বাদু পানির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সে প্রেক্ষাপটে এবারের পানি দিবসের মূল উদ্দেশ্য আসলে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগীতা বৃদ্ধি। বাংলাদেশের মত একটি দেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে সিহভাগ পানির উৎসই হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ, এই বছরের পানি দিবস তাই অধিক গুরুত্ত্ব বহন করে। 

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৩

পানিসম্পদ বিষয়ক উন্মুক্ত তথ্য ও উপাত্তের জটিলতা


সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফর করছেন। তার সফরে আবারো উঠে এসেছে তিস্তা চুক্তির প্রসংগ। শুধু তিস্তা নয়, গঙ্গা, বারাক, ব্রহ্মপুত্র, সারি, ফেনী সহ সব অভিন্ন নদ-নদীর ক্ষেত্রে উজানের দেশের যেকোন উন্নয়ন অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়শঃই এই গবেষণায় মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে উপাত্ত। এমনকি আলোচিত টিপাইমুখ প্রকল্প বা ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে যেয়ে একমাত্র উপাত্তের অভাবেই তা বিসর্জন দিতে হয়েছে। অথচ আমাদের যুক্ত নদী কমিশন বাংলাদেশ ভারত অভিন্ন নদীগুলোর উপাত্তের একটি ভান্ডার হতে পারে। কিন্তু উপাত্ত যুক্ত নদী কমিশনের কাছে থাকলেই কি সেটা সবার কাছে উন্মুক্ত হবে? এই প্রসংগে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে এই লেখা।

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১২

গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তির সাফল্য-ব্যর্থতা

জাহিদুল ইসলাম ও ডঃ মোঃ খালেকুজ্জামান

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৭ টি আন্তঃসীমান্ত নদী প্রবাহমান থাকলেও ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তিই এই দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে আন্তঃ-নদীর পানিবন্টনের একমাত্র উদাহরন। সঙ্গত কারণেই, এই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন দুই দেশের জন্যই গুরুত্ত্বপূর্ন।গঙ্গার পানি প্রবাহ আর এর অববাহিকা বিধৌত পলি যেমন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত চার কোটি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তেমনি তা এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশগত ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্ত্বপূর্ন। বিশেষত, সুন্দরবনের মত একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের টিকে থাকা নির্ভর করছে গঙ্গা এবং তার শাখা নদী সমূহের যথাযথ প্রবাহের উপর। গঙ্গা অববাহিকা নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। আর তাই সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে এই অববাহিকার সকল অংশীদারদের পরিকল্পনা হওয়া উচিৎ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে গঙ্গার পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে এইযে আন্তঃ-নদীর ক্ষেত্রে এখনো অববাহিকা ভিত্তিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সেরকম কোন দৃষ্টান্ত দক্ষিণ এশিয়ায় নেই।

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১২

নৌপথের নাব্যতা সমস্যা এবং বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল নৌপথ

১)
বাংলাদেশের নদীসমূহে নৌপরিবহন নিশ্চিত করার জন্য, অর্থাৎ শ্রেণীভেদে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সম্ভাব্য গভীরতা বা LAD বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (BIWTA) কাজ করে থাকে। তাদের একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ কাজ এই নৌপথসমুহের নাব্যতা রক্ষা করা যা অনেক সময় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু অর্থাভাবে তা সবসময় নিশ্চিত করা যায় না। এছাড়া দেখা গেছে, অধিকাংশ সময়ে প্রাধান্য থাকে পদ্মা, যমুনা এবং মেঘনা ফেরী ক্রসিং এর নৌপথ নিশ্চিত করা; ফলে মূল নদীপথ রক্ষণাবেক্ষণ থাকে অর্থাভাবে অবহেলিত। বাংলাদেশের নদীসমুহের মধ্যে গঙ্গা-পদ্মা ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে চুক্তি অনু্যায়ী সীমিত পরিমাণ পানি পায় শুষ্ক মৌসুমে, এর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নদীসমুহের পানিপ্রবাহ সম্পর্কিত। যমুনাতে পানির পরিমানের সমস্যা না থাকলেও পলি সমস্যা প্রকট।অন্যদিকে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনাতে নাব্যতা সমস্যা অন্য নদীসমূহের তুলনায় কম। বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল নৌপথকে সরকারী-বেসরকারী উভয়ক্ষেত্রে সঠিক ও অর্থনৈতিক ভাবে মুনাফা অর্জনকারী পণ্য পরিবহন কাজে ব্যবহার করতে পারলে দুই দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হতে পারে। এই লেখায় খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হবে যে বাংলাদেশ ভারত বর্তমান প্রটোকল নৌপথ সংরক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নদীসমূহের নাব্যতা সংরক্ষণ করা যায় কিনা। একই সাথে বলে রাখা ভাল যে এটি অবশ্যই প্রারম্ভিক আলোচনা, বিশদ বিশ্লেষণ এক্ষেত্রে আবশ্যক এবং তা অবশ্যই কারিগরী দৃষ্টিকোন থেকে করতে হবে।

রবিবার, ২৭ মে, ২০১২

কেমন হল পানি আইন-২০১২


 ১)

পানি একটি সীমিত সম্পদ, আর যেহেতু বাংলাদেশের জীবনধারা গড়ে উঠেছে পানিকে কেন্দ্র করে তাই পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ন একটি বিষয়। মূলত মানুষের জীবনধারন, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ব্যাপক, সমন্বিত ও সুষম ভিত্তিতে দেশের পানিসম্পদ ব্যাবস্থাপনার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানি নীতি ঘোষিত হয়। জাতীয় পানি নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রনয়নের লক্ষ্যেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রস্তাবিত বাংলাদেশ পানি আইন ২০১২ প্রকাশ করেছে। নয়টি অধ্যায়ে মোট ও ৩৯ টি ধারার মাধ্যমে প্রকাশিত এই প্রস্তাবিত আইনটি মূলত জাতীয় পানি নীতির আলোকেই প্রণিত হয়েছে যা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। প্রস্তাবিত আইনটির প্রথম অধ্যায়টিতে আইনে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকী আটটি অধ্যায়ে আইনের মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে। এই নিবন্ধে এই প্রস্তাবিত পানি আইন ২০১২ এর একটি সার্বিক পর্যালোচনা থাকবে। প্রথমে প্রস্তাবিত পানি আইনের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা থাকবে, এর পরবর্তীতে এই আইনের কিছু অসংগতি বিশ্লেষণ করা হবে, এবং পরিশেষে এই আইনে একটি গুরুত্ত্বপূর্ন বিষয় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা থাকবে।

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

পর্যালোচনাঃ বাংলাদেশ পানি আইন ২০১২

বাংলাদেশ পানি আইন ২০১২

সরকার সম্প্রতি প্রস্তাবিত বাংলাদেশ পানি আইন ২০১২ প্রকাশ করেছে[১]। ইতিপূর্বে ২০০৯ সালে এই আইনের ইংরেজি খসড়া [২] ও ২০১০ সালে বাংলা খসড়া [৩] প্রকাশ করা হয়েছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই আইন প্রণয়নের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। মূলত দেশের পানিসম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, দক্ষ ও কারিগরি ব্যবহার, সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ [৪] এর আলোকে বাংলাদেশ পানি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি নয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং এতে মোট ৩৯ টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে প্রস্তাবিত প্রথম অধ্যায়টিতে এই আইনে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকী আটটি অধ্যায়ে আইনের মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে। এই নিবন্ধে প্রস্তাবিত পানি আইন ২০১২ এর দ্বিতীয় থেকে নবম এই আটটি অধ্যায়ের আলোকে সার্বিক পর্যালোচনা থাকবে।

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১২

ঢাকার পানিসমস্যা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ

১.

সভ্যতার সাথে পানির সম্পর্ক অকৃত্রিম এবং অপরিহার্য। সেকারনেই পৃথিবীর অধিকাংশ সভ্যতার সূচনা ঘটেছে কোন না কোন নদীকে কেন্দ্র করে। সেসময় জীবন ধারনের জন্য পানির অপরিহার্যতার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যব্যস্থাও ছিল আসলে নদী নির্ভর। বর্তমান কালে স্থল ও আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যব্যস্থায় অভূত উন্নতি সাধন নৌযোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা হয়ত কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখনো জীবন ধারন এবং নগর জীবনের প্রাত্যাহিক কাজের জন্য পানির কোন বিকল্প নেই।সাধারনত একটি শহর যে নদীকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে তার উজান থেকে পানি সংগ্রহ করে তাকে পরিশোধন করে নগরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয় যেমন গৃহস্থালী, বানিজ্যিক ভবন, কল কারখানা ইত্যাদি। এসব থেকে নিষ্কাশিত পানি আবার দূষিত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে পরিশোধিত পানি আবার নদীর ভাটিতে ফেলে দেয়া হয়।


রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২

বৃষ্টির পানির যথাযথ ব্যবহার

১.

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার ছোট্ট একটি দেশ বারমুডা, যা কিনা মূলত ব্রিটিশ ওভারসীজ টেরিটরি। সর্বোচ্চ আড়াই কিলোমিটার প্রশস্ত আর পঁচিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দেশটি আদতে চুনাপাথর দিয়ে গড়া ছয়টি বড় বড় দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। আয়তনে ছোট হলেও সর্বশেষ ২০১২ এর আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির অধিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার। ফলশ্রুতিতে জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে দেশটির অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। বারমুডাতে স্বাদু পানির কোন প্রবাহ বা নদী নেই, সেই সাথে মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বলে ছোট আকৃতির এই দ্বীপটিতে ভূগর্ভস্থ পানির একটি বড় অংশ লবণাক্ত। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে এই বিপুল ঘনবসতির দেশটির স্বাদু পানির মূল উৎস কি? উত্তর হচ্ছে বৃষ্টির পানি। বারমুডায় সারাবছর প্রায় একই হারে (মাসে ১২০ মিমি) বৃষ্টিপাত হয় যার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০০ মিমি। ১৯৫১ সালের জনস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী বারমুডার প্রতিটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য ব্যবস্থা আর সেই সাথে সেই পানি সঞ্চয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ বা ভূপরিস্থ জলাধার থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক বাড়ির ক্ষেত্রে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালির জন্য পানির যোগান আসে এই সঞ্চিত পানি থেকেই। তবে অধিকাংশ বাড়ির জন্য এই সঞ্চিত পানিই যথেষ্ট নয়, ফলশ্রুতিতে তাদের নির্ভর করতে হয় পরিশোধিত ভূগর্ভস্থ বা সমুদ্রের পানি ও অন্যান্য স্থানে সংগৃহীত বৃষ্টির পানির উপর। গড়ে বারমুডার ৫৬ শতাংশ পানির উৎস বৃষ্টির পানি আর বাদবাকি আসে ভূগর্ভস্থ স্বাদু পানি, ভূগর্ভস্থ পরিশোধিত লবণাক্ত পানি ও পরিশোধিত সমুদ্রের পানি থেকে। 

বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১২

খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে পানির সম্পর্ক নিবিড়

'পানি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা', এ স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছরের ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। মূলত খাদ্যের নিশ্চয়তার সঙ্গে পানি যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সবার সামনে নিয়ে আসাই এবারের বিশ্ব পানি দিবসের উদ্দেশ্য। ১৯৯২ সালে রিওডি জেনেরিওতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক অধিবেশনে একটি বিশেষ দিনকে স্বাদু পানি দিবস হিসেবে পালন করার সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চকে প্রথম আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর স্বাদু পানির ওপর একেকটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং সেটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্বের সব মানুষের কাছে সব সময়ের জন্য। আর খাদ্য উৎপাদনের একটি প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে পানি। প্রতিদিন আমরা খাদ্য হিসেবে ভাত বা রুটি, পাউরুটি, মাংস, ডিম ইত্যাদি গ্রহণ করি; পানীয় হিসেবে কাপের পর কাপ চা বা কফি পান করি। কিন্তু আমরা কি জানি, এসব কিছুর জন্যই পানির প্রয়োজন, কম কিংবা বেশি, যাকে ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট বা জলপদাঙ্ক দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে।

শুক্রবার, ১৬ মার্চ, ২০১২

খাদ্যের নিশ্চয়তা ও পানি

এবারের বিশ্ব পানি দিবসের স্লোগান হচ্ছে ‘খাদ্যের নিশ্চয়তা ও পানি’। ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাদু পানির উপর এক একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে ২২ শে মার্চ আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। খাদ্যের নিশ্চয়তার সাথে পানি যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সবার সামনে নিয়ে আসাই এবারের বিশ্ব পানি দিবসের উদ্দেশ্য।সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুষম খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং সেটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের উর্দ্ধে থেকে বিশ্বের সকল মানুষের কাছে সব সময়ের জন্য। আর খাদ্যের উৎপাদনের একটি প্রধান পূর্বশর্ত হচ্ছে পানি। প্রতিদিন আমরা নিজেদের খাদ্য হিসেবে ভাত বা রুটি, পাউরুটি, মাংস, ডিম ইত্যাদি গ্রহন করি; পানীয় হিসেবে কাপের পর কাপ চা বা কফি পান করি। কিন্তু আমরা কি জানি এই সব কিছুর জন্যই পানির প্রয়োজন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে, যাকে ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট (Water Footprint) বা জলপদাঙ্ক দিয়ে প্রকাশ করা যেতে পারে। বিশ্ব পানি দিবসকে সামনে রেখে আমার আজকের আলোচনা এই জলপদাঙ্ক নিয়ে। পুরো নিবন্ধটি কয়েকটি অংশে বিভক্তঃ প্রথমে থাকবে জলপদাঙ্কের মৌলিক জ্ঞান, বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যের জলপদাঙ্কের তুলনামূলক চিত্র এবং জাতীয় প্রেক্ষাপটে (বাংলাদেশ) জলপদাঙ্কের চিত্র। পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ও নদী অববাহিকার প্রেক্ষাপটে জলপদাঙ্কের চিত্র ও গুরুত্ত্ব আলোচনা করা হবে।

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

টিপাইমুখ যৌথ সমীক্ষার বিবেচ্য বিষয়গুলো

পানিসম্পদ কৌশলের একজন গবেষক হিসেবে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান ছিল কিছুটা এ রকম : প্রাথমিক গবেষণার আলোকে এটি প্রতীয়মান হয়, টিপাইমুখ বাঁধের কারণে সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র, পানিসম্পদ এবং মরফোলজিগত প্রভাব পড়বে। এ সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলোকে সিদ্ধ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন এ প্রকল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব যাচাই নিরূপণ, যা যৌথ সমীক্ষা আকারে হওয়া উচিত। বস্তুত এ সমীক্ষার পরই জানা যাবে এই বাঁধ হলে বাংলাদেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে। পরবর্তী বিবেচনায় আসবে বাঁধের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে আনা আদৌ সম্ভব হবে কিনা। যদি বাঁধের ফলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য এর ডিজাইনে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা সম্ভব হয়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর যদি এ ক্ষতি সহনীয় মাত্রায় আনা সম্ভব না হয় তাহলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার প্রস্তাব ভারতের কাছে উত্থাপন করতে হবে।

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

টিপাইমুখ যৌথ সমীক্ষাঃ বাংলাদেশের বিবেচ্য বিষয়সমুহ

টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প নিয়ে গত প্রায় তিন বছর ধরে বিশ্লেষন ও লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য ছিল কয়েকটি।প্রথমতঃ এই প্রকল্পের ভারতীয় কতৃপক্ষের [১] পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করনে ভাটির প্রভাব, যা মূলত বাংলাদেশে পড়বে তা উপেক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু আদতে একটি বাঁধের ভাটিতে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমানে পরিবেশ ও পানিসম্পদগত পরিবর্তন ও বিপর্যয় ঘটে থাকে যা নির্নয় করা আবশ্যক।দ্বিতীয়তঃ টিপাইমুখ প্রকল্প নিয়ে এযাবতকালে পরিচালিত গবেষনার ( FAP 6 [২] ও IWM [৩]) আলোকে এটি প্রতীয়মান হয় যে টিপাইমুখ প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, বিশেষত হাওড় এলাকার পরিবেশ ও বাস্ততন্ত্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। কিন্তু ঠিক কি পরিমান প্রভাব পড়বে সেটা নির্নয় করার জন্য প্রয়োজন আরো গবেষণা। তৃতীয়তঃ টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান সবসময় ছিল কিছুটা এরকম যে, এই বাঁধ হলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবেনা [৪] এই বাঁধ হবেই [৫], কিংবা ফুলেরতল ব্যারেজ না হয়ে শুধু বাঁধ হলে তা বাংলাদেশের উপর নেতিবাচক কোন প্রভাব ফেলবেনা। অথচ আন্তঃসীমান্ত নদীতে উল্লেখযোগ্য কোন প্রকল্প করা হলে তা যেন অন্য দেশে, বিশেষত ভাটিতে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া না ফেলে সেদিকে সচেষ্ট থাকা উচিৎ। চতুর্থতঃ টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ছিল মূলত ভারতের আশ্বাসে আশস্ত থাকা [৬,৭], কিংবা টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক [৮], টিপাইমুখ বাঁধ ভারতের আভ্যন্তরীন বিষয় [৯] , কিংবা টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধিতা আদতে ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবপ্রসূত [১০]।

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১২

টিপাইমুখ বাঁধ: এই মূহুর্তে বাংলাদেশের করনীয়


টিপাইমুখ নিয়ে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক আলোচনার নিমিত্তে ডঃ গওহর রিজভী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান দিল্লী সফর করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখে বাঁধ হলেও তাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না এবং তিনি মনে করেন যে টিপাইমুখে বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে বলে যে কথাগুলো উঠেছে, তার সবই ভিত্তিহীন। পরবর্তীতে তিনি তার এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে টিপাইমুখ প্রকল্পের সমতাভিত্তিক অংশীদার হওয়া এবং সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের ভাগ নেওয়ার আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখানে বলে রাখা ভাল যে, ভারতের এই আমন্ত্রন মেনে নেয়া মানে হচ্ছে টিপাইমুখ প্রকল্পে বাংলাদেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে সেটিকে অস্বীকার করা।


বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রতিক্রিয়াঃ "টিপাইমুখ বাঁধ তৈরি করা কেন জরুরি"

মহিউদ্দিন আহমদ ২৯ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে “টিপাইমুখ বাঁধ তৈরি করা কেন জরুরি” শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। বলতে দ্বিধা নেই তথ্যগত ও ভাষাগত বিচারে নিবন্ধটিকে আমার অত্যন্ত একপেশে মনে হয়েছে। আমি এই নিবন্ধে তার বক্তব্যের অযৌক্তিক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।

বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রতিক্রিয়া- "টিপাইমুখ: যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার অনুরোধ"

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ গওহর রিজভী সম্প্রতি The Daily Star এ "Tipaimukh: A plea for rational and scientific discussion" শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তার এই নিবন্ধ দৈনিক প্রথম আলোতে "টিপাইমুখঃ যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার অনুরোধ" শিরোনামে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে ডঃ রিজভীর এই নিবন্ধ তার সম্প্রতি ভারত সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা।উল্লেখ্য যে, টিপাইমুখ নিয়ে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক আলোচনার নিমিত্তে ডঃ গওহর রিজভী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান দিল্লী সফর করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখে বাঁধ হলেও তাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না এবং তিনি মনে করেন যে টিপাইমুখে বাঁধের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে বলে যে কথাগুলো উঠেছে, তার সবই ভিত্তিহীন। বলতে দ্বিধা নেই ডঃ রিজভীর এই নিবন্ধ সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তার মতামতেরই আনুষ্ঠানিক রূপ। এখানে বলে নেয়া ভাল যে তার এই নিবন্ধের অনেক অংশেই আমার দ্বিমত রয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি এই নিবন্ধে পানিসম্পদ কৌশলগত দিক থেকে কিছু ভুল তথ্য দিয়েছেন। আমার এই নিবন্ধে তার লেখার কিছু অসংগতি এবং যেসব বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী মতামত রয়েছে তার ব্যবচ্ছেদ থাকবে।

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১১

টিপাইমুখ বাঁধঃ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

প্রায় ২ বছরের শীতনিদ্রার পর আবারো আলোচনার টেবিলে টিপাইমুখ বাঁধ। ২০০৯ সাল ছিল টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনার বছর। সেই সময়ের সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি, ভিডিও, আর প্রতিবেদনের ছড়াছড়ি দেখতে পাবেন। ১৯৫৪ সালে যে পরিকল্পনার শুরু, ১৯৭৪ সালে তার বাস্তবায়নের স্থান নির্ধারণ, আর ২০০৯-এর দিকে এসে তার নির্মাণ কাজ শুরুর কথা ছিল। আমাদের সংসদীয় কমিটি ভারত সফরে থেকে ফিরে এসে সে সময় মন্তব্য করেছিলেন,
হেলিকপ্টারে খুব নিচু দিয়ে পরিভ্রমণকালে টিপাইমুখে কোনো অবকাঠামো প্রতিনিধি দলের দৃষ্টিগোচর হয়নি। প্রকল্পের ভাটিতে কোনো ব্যারাজ বা অবকাঠামো নির্মাণের কোনো রকম প্রস্তুতিও পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনো কোনো প্রাথমিক ভৌত কার্যাদি শুরু হয়নি [১]।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

তিস্তা পানিবন্টন চুক্তির সম্ভাবনার অপমৃত্যুঃ একটি বিশ্লেষণ

ভূমিকাঃ

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হলো, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময়ে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি সম্পাদিত হলো না। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের পানিসম্পদের জন্য এটি একটি দুঃখজনক ও হতাশাব্যাঞ্জক খবর। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে গত ৪০ বছর ধরে, গঙ্গাচুক্তি হবার পর থেকে (১৯৯৬ সাল) তা বেগবান হয়েছে বলে ধারনা করা হয়। বিশেষ করে গতবছর (২০১০) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের পথে অনেকদূর এগিয়েছিল দুই দেশ। যদিও শেষ মূহুর্তে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি জানান, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন, বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশের প্রধানমত্রীর ভারত সফরে এ ব্যাপারে কোনো চুক্তি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে সফরে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে [১]। এবছর (২০১১) মনমোহন সিং এর বাংলাদেশে সফরের সময় অবশ্য শেষ পর্যন্তও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন[২] তবে তা যে নিছকই দুরাশা ছিল সেটা বলাই বাহুল্য।